
চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট
রেলের ইঞ্জিন সঙ্কট
- আপলোড সময় : ০২-০৩-২০২৫ ১১:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-০৩-২০২৫ ১১:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন


* দিনে প্রায় চারটি ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে পণ্যভর্তি কনটেইনার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা।
* দেশে পণ্যের কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।
* নিয়মিত ট্রেন ছেড়ে না যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট বাড়ছে।
রেলের ইঞ্জিন সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকামুখী কনটেইনার ডেলিভারি। ফলে বন্দরের ভেতরে কনটেইনার জটের সৃষ্টি হচ্ছে। দিনে প্রায় চারটি ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে পণ্যভর্তি কনটেইনার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখন দুই দিনেও একটি ট্রেন যাচ্ছে না। রেল কর্তৃপক্ষইঞ্জিন সংকটে পরিচালনা করতে পারছে না পর্যাপ্ত ট্রেন। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা পণ্য ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহও করা যাচ্ছে না। তাতে দেশে পণ্যের কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রায় ১৬০০ একক কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর ও বাইরে আটকে রয়েছে। আর জাহাজ থেকে নামার অপেক্ষায় রয়েছে আরো অনেক কনটেইনার। বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কনটেইনারবাহী পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকামুখী ট্রেনের অনিয়মিত যাত্রার কারণে বর্তমানে বন্দরে পণ্যভর্তি প্রায় ১৪০০ একক কনটেইনার পণ্য আটকে রয়েছে। ছয়টি ট্রেনের রেক পণ্যভর্তি কনটেইনার দিয়ে লোড করা হলেও ইঞ্জিনের অভাবে তা আটকে রয়েছে। আর ঢাকামুখী কনটেইনার ডেলিভারি না হওয়ায় বন্দরের ভেতরে কনটেইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে। ওই জট শুধু বন্দরের ভেতরেই নয়, বন্দরের বাইরের কাস্টমস ওভারব্রিজের নিচ দিয়ে যে রেললাইন সিজিপিওয়াইতে (চিটাগং গুডস পোর্ট ইয়ার্ড) গেছে সেই রেল লাইনের ওপরে ছয়টি ট্রেন পণ্যভর্তি অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে রেললাইনের ওপরে রেকভর্তি কনটেইনার প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা পণ্যভর্তি কনটেইনারের মধ্যে বেশিরভাগই রমজান উপলক্ষে ভোগ্যপণ্য এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পণ্য। ওসব পণ্য সঠিক সময়ে পৌঁছানো না গেলে বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া পণ্যভর্তি কনটেইনারগুলো আটকে থাকায় আমদানিকারক তথা ভোক্তা পর্যায়েও ক্ষতি হচ্ছে। আর পণ্য ডেলিভারি করতে সময় বেশি লাগায় বাড়ছে ডেমারেজ চার্জও। ওসব চার্জ শেষ পর্যন্ত বর্তাবে ভোক্তার উপর।
সূত্র আরো জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হওয়া কনটেইনারের ৯৬ শতাংশই আনা-নেয়া হয়। বাকি ৩ শতাংশ রেলপথে ও ১ শতাংশের কম নৌপথে পরিবহন হয়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ট্রেনের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৪০ থেকে ১৬০টি কনটেইনার পরিবহন করা হয়। বর্তমানে ওসব কনটেইনার নিয়মিত পরিবাহিত না হওয়ায় জটলার সৃষ্টি হয়েছে। আগে দিনে চারটি পণ্যবাহী কনটেইনার ট্রেন চালানো হতো। কিন্তু গত একমাস ধরে দিনে দুটি ট্রেন চলছে না। মূলত ইঞ্জিন না থাকায় কনটেননারবাহী ট্রেন চালানো যাচ্ছে না।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক জানান, নিয়মিত ট্রেন ছেড়ে না যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট বাড়ছে। ফলে পানগাঁও টার্মিনালের মাধ্যমে কনটেইনার ঢাকায় পাঠানো যায় কিনা তা ভাবা হচ্ছে। তবে সেক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদনের প্রয়োজন। যদি পানগাঁও পাঠানো যায় তাহলে হয়তো দ্রুত ঢাকায় ওসব পণ্যভর্তি কনটেইনার পাঠানো যাবে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সবুক্তগীন জানান, বন্দর দিয়ে আমদানিপণ্য ঢাকা আইসিডিতে পাঠানোর জন্য দিনে চারটি ট্রেন চালানোর কথা থাকলেও ইঞ্জিন সংকটের কারণে পারা যাচ্ছে না। তবে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হচ্ছে। তার মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে আটকে থাকা সব পণ্য গন্তব্য স্টেশনে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে খাদ্যপণ্যবাহী ট্রেন, তেলবাহী ট্রেন ও সারবাহী ট্রেন একই সময়ে চালু হওয়ায় বেড়ে গেছে ইঞ্জিন সংকট। একই সময়ে সবগুলো পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ